Discover
বাংলা কুরআন - Bangla Quran | শুধু বাংলা অনুবাদ - Only Bangla Translation
বাংলা কুরআন - Bangla Quran | শুধু বাংলা অনুবাদ - Only Bangla Translation
Author: Simple Bangla Quran
Subscribed: 2Played: 72Subscribe
Share
© Simple Bangla Quran
Description
বাংলা কুরআন - ৩০ পারা - শুধু বাংলা অনুবাদ | 30 Para Quran - Only Bangla Translation
কুরআন বুঝতে চান, কিন্তু আরবি কঠিন লাগে? এই পডকাস্ট শুধু আপনার জন্য।কোনো আরবি নেই, শুধু সহজ বাংলা অর্থ।
কোরআন মাজীদ সহজ সরল বাংলা অনুবাদ
অনুবাদক: হাফেজ মুনীর উদ্দীন আহমদ
Voice: Syed Ismat Toha
কুরআন বুঝতে চান, কিন্তু আরবি কঠিন লাগে? এই পডকাস্ট শুধু আপনার জন্য।কোনো আরবি নেই, শুধু সহজ বাংলা অর্থ।
কোরআন মাজীদ সহজ সরল বাংলা অনুবাদ
অনুবাদক: হাফেজ মুনীর উদ্দীন আহমদ
Voice: Syed Ismat Toha
30 Episodes
Reverse
পারা ৩০ – সংক্ষিপ্ত বর্ণনাকুরআনের ৩০ নম্বর পারা শুরু হয়েছে সূরা নাবা দিয়ে এবং শেষ হয়েছে সূরা নাস। এই পারায় কিয়ামত, আল্লাহর শক্তি, মানুষের সতর্কতা এবং ইমানদারদের জন্য আশ্বাস তুলে ধরা হয়েছে।এই পারার প্রধান বিষয়গুলো:• কিয়ামতের দিন এবং মানুষের পূর্ণ হিসাব• জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা• মানুষের সৃষ্টির উদ্দেশ্য এবং আল্লাহর প্রতি আনুগত্য• মানুষের পাপ ও শয়তানের প্রলোভন থেকে সতর্ক থাকার শিক্ষাসূরা নাবা ও সূরা নাজিয়াত এ কিয়ামতের ভয়াবহতা এবং মানুষের পুনরুত্থানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।সূরা আবাসা এ ব্যবসায়ী ও সমৃদ্ধদের সতর্ক করা হয়েছে যাতে তারা দারিদ্র ও দরিদ্রদের প্রতি উদার ও ন্যায়পরায়ণ থাকে।সূরা তাহা থেকে সূরা আছ-ছেলাশা/ফালাক পর্যন্ত মানুষের নৈতিক দায়িত্ব, শয়তানের প্রলোভন থেকে রক্ষা এবং আল্লাহর আশ্রয় নেওয়ার গুরুত্ব উল্লেখ করা হয়েছে।শেষে সূরা নাস এ মানুষকে প্রার্থনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে তারা শয়তানের প্রলোভন থেকে রক্ষা পায়।এই পারা আমাদের শেখায়:কিয়ামতের কথা মনে রাখা, আল্লাহর উপর ভরসা রাখা, শয়তানের প্রলোভন থেকে সতর্ক থাকা, এবং সৎ ও ন্যায়পরায়ণ জীবন যাপন করা।
পারা ২৯ – সংক্ষিপ্ত বর্ণনাকুরআনের ২৯ নম্বর পারা শুরু হয়েছে সূরা মুলক দিয়ে। এরপর রয়েছে সূরা কলম, সূরা হাক্কাহ, সূরা মাআরিজ, সূরা নূহ, সূরা জিন, সূরা মুজ্জাম্মিল, সূরা মুদ্দাসসির, সূরা কিয়ামাহ, সূরা ইনসান এবং সূরা মুরসালাত। এই পারায় মূলত কিয়ামত, মানুষের জবাবদিহি, নবীদের দাওয়াত এবং মানুষের জন্য সতর্কবার্তা তুলে ধরা হয়েছে।এই পারার প্রধান বিষয়গুলো:• আল্লাহর অসীম ক্ষমতা এবং সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা করার আহ্বান• কিয়ামতের দিন ও মানুষের হিসাব• নবীদের মাধ্যমে মানুষকে সত্যের পথে ডাকার শিক্ষা• ঈমানদার ও অবিশ্বাসীদের ভিন্ন পরিণতিসূরা মুলক এ আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টির নিদর্শনের মাধ্যমে আল্লাহর ক্ষমতা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং মানুষকে চিন্তা করতে বলা হয়েছে।সূরা কলম এ নবী মুহাম্মদ ﷺ এর চরিত্রের প্রশংসা করা হয়েছে এবং সত্য অস্বীকারকারীদের সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে।সূরা হাক্কাহ ও সূরা মাআরিজ এ কিয়ামতের দিনের ভয়াবহতা এবং মানুষের জবাবদিহির কথা বর্ণনা করা হয়েছে।সূরা নূহ এ হযরত নূহ (আ.) তাঁর জাতিকে দীর্ঘ সময় ধরে আল্লাহর পথে ডাক দিয়েছিলেন — সেই ঘটনার কথা তুলে ধরা হয়েছে।সূরা জিন এ কিছু জিন কুরআন শুনে ঈমান গ্রহণ করার ঘটনার কথা বলা হয়েছে।সূরা মুজ্জাম্মিল ও সূরা মুদ্দাসসির এ নবী মুহাম্মদ ﷺ কে আল্লাহর বাণী প্রচার করার দায়িত্ব এবং ইবাদতের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।পারা ২৯ এর শেষ অংশে কিয়ামত, জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা দিয়ে মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে।এই পারা আমাদের শেখায়:আল্লাহর শক্তি ও কিয়ামতের কথা মনে রাখা, নবীদের দাওয়াত থেকে শিক্ষা নেওয়া, এবং ঈমান ও সৎকর্মের মাধ্যমে সঠিক পথে চলা।
পারা ২৮ – সংক্ষিপ্ত বর্ণনাকুরআনের ২৮ নম্বর পারা শুরু হয়েছে সূরা মুজাদিলা দিয়ে। এরপর রয়েছে সূরা হাশর, সূরা মুমতাহিনা, সূরা সাফ এবং সূরা জুমুআহ। এই পারায় মুসলমানদের সামাজিক জীবন, আল্লাহর পথে আনুগত্য, এবং মুমিনদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা তুলে ধরা হয়েছে।এই পারার প্রধান বিষয়গুলো:• আল্লাহ সবকিছু শোনেন ও জানেন — এই সত্যের স্মরণ• মুমিনদের মধ্যে সঠিক সামাজিক আচরণ• মুনাফিকদের আচরণ থেকে সতর্ক হওয়ার শিক্ষা• আল্লাহর পথে একতা ও দৃঢ়তার গুরুত্বসূরা মুজাদিলা তে একজন নারীর অভিযোগ আল্লাহ কীভাবে শুনেছেন তার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে গোপন পরামর্শ, মুনাফিকদের আচরণ এবং আল্লাহর সর্বজ্ঞতার কথা বলা হয়েছে।সূরা হাশর এ বনু নযীর ইহুদিদের ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে এবং মুসলমানদের ঐক্য ও আল্লাহর উপর ভরসার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। এই সূরার শেষ অংশে আল্লাহর অনেক সুন্দর নাম ও গুণাবলি উল্লেখ করা হয়েছে।সূরা মুমতাহিনা তে মুসলমানদেরকে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে কাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা উচিত এবং কাদের সঙ্গে সতর্ক থাকা দরকার, বিশেষ করে যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিরোধিতা করে।সূরা সাফ এ আল্লাহর পথে একসাথে দাঁড়ানো এবং সত্যের জন্য সংগ্রাম করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এখানে ঈসা (আ.) এর দাওয়াতের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।পারা ২৮ এর শেষ অংশে সূরা জুমুআহ রয়েছে, যেখানে জুমার নামাজের গুরুত্ব এবং আল্লাহকে স্মরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।এই পারা আমাদের শেখায়:আল্লাহ সবকিছু জানেন এই বিশ্বাস রাখা, মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা, এবং আল্লাহর পথে দৃঢ়ভাবে চলা।
পারা ২৭ – সংক্ষিপ্ত বর্ণনাকুরআনের ২৭ নম্বর পারা শুরু হয়েছে সূরা যারিয়াত এর শেষ অংশ দিয়ে। এরপর রয়েছে সূরা তূর, সূরা নাজম, সূরা ক্বামার এবং সূরা রহমান। এই পারায় কিয়ামত, আল্লাহর শক্তি, মানুষের জন্য সতর্কবার্তা এবং আল্লাহর অসংখ্য নিয়ামতের কথা তুলে ধরা হয়েছে।এই পারার প্রধান বিষয়গুলো:• কিয়ামতের দিন এবং মানুষের জবাবদিহি• আল্লাহর শক্তি ও সৃষ্টির বিভিন্ন নিদর্শন• পূর্ববর্তী জাতিদের ধ্বংসের ঘটনা থেকে শিক্ষা• জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনাএরপর সূরা তূর এ কিয়ামতের ভয়াবহতা এবং অবিশ্বাসীদের পরিণতির কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি ঈমানদারদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।সূরা নাজম এ নবী মুহাম্মদ ﷺ এর প্রতি নাজিল হওয়া ওহীর সত্যতা এবং আল্লাহর মহিমা তুলে ধরা হয়েছে। এখানে মানুষের ভুল বিশ্বাস ও মিথ্যা উপাসনার সমালোচনা করা হয়েছে।সূরা ক্বামার এ অতীতের বিভিন্ন জাতির ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে, যেমন নূহ (আ.), আদ, সামুদ এবং লুত (আ.) এর জাতি। তাদের অবাধ্যতার কারণে কীভাবে ধ্বংস নেমে এসেছিল তা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।এরপর সূরা রহমান এ আল্লাহর অসংখ্য নিয়ামতের কথা বারবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং মানুষ ও জিনদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে: “তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নিয়ামত অস্বীকার করবে?”এই পারা আমাদের শেখায়:আল্লাহর নিয়ামত স্মরণ রাখা, কিয়ামতের দিনের কথা মনে রাখা, এবং সত্যের পথে দৃঢ়ভাবে চলা।
পারা ২৬ – সংক্ষিপ্ত বর্ণনাকুরআনের ২৬ নম্বর পারা শুরু হয়েছে সূরা আহকাফ এর শেষ অংশ দিয়ে। এরপর রয়েছে সূরা মুহাম্মদ, সূরা ফাতহ, সূরা হুজুরাত এবং সূরা ক্বাফ এর প্রথম অংশ। এই পারায় ঈমান, জিহাদ, মুসলমানদের পারস্পরিক আচরণ এবং কিয়ামতের স্মরণ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।এই পারার প্রধান বিষয়গুলো:• ঈমানদার ও অবিশ্বাসীদের ভিন্ন পরিণতির কথা• আল্লাহর পথে সংগ্রাম করার গুরুত্ব• মুসলমানদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও শিষ্টাচারের শিক্ষা• কিয়ামতের দিন পুনরুত্থান ও হিসাবএরপর সূরা মুহাম্মদ এ বলা হয়েছে, যারা আল্লাহর পথে ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে আল্লাহ তাদের আমল কবুল করেন। আর যারা সত্যকে অস্বীকার করে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন পরিণতি।সূরা ফাতহ এ হুদাইবিয়ার সন্ধিকে একটি মহান বিজয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে ঈমানদারদের জন্য সুসংবাদ এবং নবী মুহাম্মদ ﷺ এর মর্যাদার কথা তুলে ধরা হয়েছে।সূরা হুজুরাত এ মুসলমানদের সামাজিক আচরণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এখানে পরস্পরের প্রতি সম্মান, গীবত ও অপবাদ থেকে দূরে থাকা এবং মুসলিম ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।পারা ২৬ এর শেষ অংশে সূরা ক্বাফ এর শুরু রয়েছে, যেখানে কিয়ামতের দিন, মানুষের পুনরুত্থান এবং আল্লাহর অসীম ক্ষমতার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।এই পারা আমাদের শেখায়:ঈমান দৃঢ় রাখা, মুসলমানদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করা, এবং আল্লাহর সামনে জবাবদিহির কথা স্মরণ রেখে জীবন পরিচালনা করা।
পারা ২৫ – সংক্ষিপ্ত বর্ণনাকুরআনের ২৫ নম্বর পারা শুরু হয়েছে সূরা ফুসসিলাত এর শেষ অংশ দিয়ে। এরপর রয়েছে সূরা শুরা, সূরা যুখরুফ এবং সূরা দুখান। এই পারায় আল্লাহর একত্ববাদ, ওহীর সত্যতা, নবীদের দাওয়াত এবং মানুষের জন্য শিক্ষা ও সতর্কবার্তা তুলে ধরা হয়েছে।এই পারার প্রধান বিষয়গুলো:• আল্লাহর দিকে মানুষকে দাওয়াত দেওয়ার গুরুত্ব• সৎকর্ম ও উত্তম আচরণের শিক্ষা• অহংকার ও দুনিয়ার মোহ থেকে সাবধান হওয়ার নির্দেশ• কিয়ামতের দিন মানুষের জবাবদিহিএরপর সূরা শুরা তে আল্লাহর ওহী, পরামর্শের গুরুত্ব এবং ঈমানদারদের গুণাবলি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, মুমিনরা আল্লাহর উপর ভরসা করে, নামাজ কায়েম করে এবং নিজেদের কাজ পরামর্শের মাধ্যমে সম্পন্ন করে।সূরা যুখরুফ এ দুনিয়ার ধন-সম্পদ ও ক্ষমতার মোহে পড়ে সত্যকে অস্বীকার করার প্রবণতার কথা বলা হয়েছে। এখানে ফেরাউন ও তার জাতির ঘটনা উল্লেখ করে মানুষকে অহংকার থেকে সতর্ক করা হয়েছে।সূরা দুখান এ কুরআনের মহত্ব, কিয়ামতের দিন এবং অবিশ্বাসীদের জন্য শাস্তির কথা তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি ঈমানদারদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।এই পারা আমাদের শেখায়:আল্লাহর পথে মানুষকে আহ্বান করা, দুনিয়ার মোহে পড়ে সত্যকে অস্বীকার না করা, এবং ঈমান ও সৎকর্মের মাধ্যমে সফলতার পথে চলা।
পারা ২৪ – সংক্ষিপ্ত বর্ণনাকুরআনের ২৪ নম্বর পারা শুরু হয়েছে সূরা যুমার এর শেষ অংশ দিয়ে। এরপর রয়েছে সূরা গাফির (মুমিন) এবং সূরা হা-মীম সাজদাহ (ফুসসিলাত) এর প্রথম অংশ। এই পারায় আল্লাহর একত্ববাদ, তাওবা, কিয়ামতের হিসাব এবং সত্যকে গ্রহণ করার আহ্বান সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।এই পারার প্রধান বিষয়গুলো:• আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে তাওবা করার আহ্বান• কিয়ামতের দিন মানুষের বিচার এবং পরিণতির কথা• ঈমানদার ও অবিশ্বাসীদের ভিন্ন পরিণতি• আল্লাহর শক্তি ও ক্ষমতার বিভিন্ন নিদর্শনএরপর সূরা গাফির এ ফেরাউনের দরবারে একজন ঈমানদার ব্যক্তির সাহসী বক্তব্যের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে তিনি মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করেন এবং কিয়ামতের শাস্তির ব্যাপারে সতর্ক করেন। এখানে আল্লাহর ক্ষমা ও দয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।সূরা ফুসসিলাত এর শুরুতে কুরআনের সত্যতা, আল্লাহর সৃষ্টির নিদর্শন এবং মানুষের জন্য সঠিক পথ গ্রহণ করার আহ্বান তুলে ধরা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, যারা আল্লাহর দিকে ডাকে এবং সৎকর্ম করে, তারা উত্তম পথের অনুসারী।এই পারা আমাদের শেখায়:আল্লাহর দিকে ফিরে আসা, অহংকার ছেড়ে সত্যকে গ্রহণ করা, এবং কিয়ামতের দিনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখা।
পারা ২৩ – সংক্ষিপ্ত বর্ণনাকুরআনের ২৩ নম্বর পারা শুরু হয়েছে সূরা ইয়াসিন এর শেষ অংশ দিয়ে। এরপর রয়েছে সূরা সাফফাত এবং সূরা সাদ এর প্রথম অংশ। এই পারায় তাওহিদ, কিয়ামত, নবীদের দাওয়াত এবং আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।এই পারার প্রধান বিষয়গুলো:• কিয়ামতের দিন মানুষের পুনরুত্থান এবং হিসাবের কথা• জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা• আল্লাহর নিদর্শন নিয়ে চিন্তা করার আহ্বান• মানুষের জন্য সত্য পথ গ্রহণ করার উপদেশএরপর সূরা সাফফাত এ বিভিন্ন নবীর জীবনের ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। এখানে হযরত নূহ (আ.), হযরত ইবরাহিম (আ.), হযরত ইসমাইল (আ.), হযরত মূসা (আ.), হযরত হারুন (আ.), হযরত ইলিয়াস (আ.) এবং হযরত ইউনুস (আ.) এর দাওয়াত ও আল্লাহর প্রতি তাদের দৃঢ় ঈমানের কথা বলা হয়েছে। হযরত ইবরাহিম (আ.) এর মহান কোরবানির ঘটনাও এখানে উল্লেখ করা হয়েছে।এরপর সূরা সাদ এর শুরুতে নবী দাউদ (আ.) এর জীবনের কিছু ঘটনা এবং ন্যায়বিচারের শিক্ষা তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি শয়তান ইবলিসের অহংকার এবং আদম (আ.) কে সেজদা করতে অস্বীকার করার ঘটনাও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।এই পারা আমাদের শেখায়:আল্লাহর উপর দৃঢ় ঈমান রাখা, নবীদের জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়া, এবং অহংকার থেকে দূরে থেকে সত্য ও ন্যায়ের পথে চলা।
পারা ২২ – সংক্ষিপ্ত বর্ণনাকুরআনের ২২ নম্বর পারা শুরু হয়েছে সূরা আহযাব এর শেষ অংশ দিয়ে। এরপর রয়েছে সূরা সাবা এবং সূরা ফাতির। এই পারায় মূলত আল্লাহর প্রতি আনুগত্য, কৃতজ্ঞতা, কিয়ামতের জবাবদিহি এবং মানুষের জন্য আল্লাহর অসংখ্য নিয়ামতের কথা আলোচনা করা হয়েছে।এই পারার প্রধান বিষয়গুলো:• নবী মুহাম্মদ ﷺ এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তাঁর উপর দরুদ পাঠ করার নির্দেশ• ঈমানদারদের সঠিক আচরণ ও সামাজিক শালীনতার শিক্ষা• মানুষের উপর অর্পিত “আমানত” বা দায়িত্বের কথা• কিয়ামতের দিন মানুষের জবাবদিহিএরপর সূরা সাবা তে হযরত দাউদ (আ.) ও হযরত সুলাইমান (আ.) কে আল্লাহ যে বিশেষ ক্ষমতা ও নিয়ামত দিয়েছিলেন তা উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে সাবা জাতির উদাহরণ দিয়ে দেখানো হয়েছে, কৃতজ্ঞতা মানুষকে কল্যাণের দিকে নিয়ে যায় আর অকৃতজ্ঞতা ধ্বংসের কারণ হয়।সূরা ফাতির এ আল্লাহ আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি, ফেরেশতাদের ভূমিকা এবং মানুষের জীবনে আল্লাহর অগণিত নিয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। এখানে মানুষকে শয়তানের ধোঁকা থেকে সাবধান থাকতে এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।এই পারা আমাদের শেখায়:আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা, তাঁর দেওয়া দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা, এবং ঈমান ও সৎকর্মের মাধ্যমে পরকালের সফলতার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া।
পারা ২১শুরু: সূরা আল-আনকাবুত ৪৬ নম্বর আয়াত থেকে সূরা আল-আহযাব ৩০ নম্বর আয়াত পর্যন্তএই পারায় ঈমানের পরীক্ষা, নবীদের সংগ্রাম, আল্লাহর উপর ভরসা এবং মুসলিম সমাজের নৈতিক ও পারিবারিক নির্দেশনা তুলে ধরা হয়েছে। কষ্টের মধ্যেও সত্য পথে অটল থাকার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।এই পারায় যা রয়েছে১. আহলে কিতাবের সাথে উত্তম আচরণইহুদি ও খ্রিস্টানদের সাথে উত্তমভাবে কথা বলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।সত্য ও যুক্তির মাধ্যমে দাওয়াত দেওয়ার শিক্ষা।২. ঈমানের পরীক্ষামানুষ শুধু ঈমান বললেই পরীক্ষা ছাড়া থাকবে না।পরীক্ষার মাধ্যমে সত্যিকারের মুমিন আলাদা হয়।৩. পূর্বের নবীদের উদাহরণনূহ (আ.) দীর্ঘ সময় জাতিকে দাওয়াত দেন।ইবরাহিম (আ.) তাওহীদের জন্য সংগ্রাম করেন।অন্যায়কারী জাতির পরিণতির উদাহরণ দেওয়া হয়েছে।৪. সূরা আর-রূমরোমানদের পরাজয় ও পরবর্তী বিজয়ের ভবিষ্যদ্বাণী উল্লেখ আছে।দুনিয়ার পরিবর্তনের মাধ্যমে আল্লাহর ক্ষমতা বোঝানো হয়েছে।৫. আল্লাহর নিদর্শনমানুষের সৃষ্টি, দিন-রাতের পরিবর্তন, ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য—সব আল্লাহর নিদর্শন।৬. সূরা লুকমানলুকমান তাঁর ছেলেকে গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ দেন।শিরক থেকে দূরে থাকাপিতা-মাতার সাথে উত্তম আচরণনামাজ কায়েমধৈর্য ও বিনয়।৭. সূরা আস-সাজদাআল্লাহর সৃষ্টির মহিমা এবং কিয়ামতের বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে।৮. সূরা আল-আহযাবের শুরুমুহাম্মদ (সা.)-এর মর্যাদা এবং মুসলিম সমাজের কিছু পারিবারিক ও সামাজিক বিধান উল্লেখ করা হয়েছে।এই পারার মূল বিষয়ঈমানের পরীক্ষাতাওহীদধৈর্যআল্লাহর নিদর্শননৈতিক শিক্ষাএই পারা শেখায়সত্য পথে চললে পরীক্ষা আসেআল্লাহর উপর ভরসা রাখতে হয়শিরক সবচেয়ে বড় অন্যায়পরিবার ও সমাজে নৈতিকতা জরুরিধৈর্য ও বিনয় মানুষকে সম্মানিত করেএই পারা মানুষকে ধৈর্য, তাওহীদ এবং নৈতিক জীবনযাপনের দিকে আহ্বান জানায়।
পারা ২০শুরু: সূরা আন-নামল ৫৬ নম্বর আয়াত থেকে সূরা আল-কাসাস ৮৮ নম্বর আয়াত পর্যন্তএই পারায় নবীদের জীবন, তাদের জাতির প্রতিক্রিয়া, ধৈর্য, আল্লাহর সাহায্য এবং তাওহীদের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। কঠিন পরিস্থিতিতেও আল্লাহর উপর ভরসা রাখার শিক্ষা আছে।এই পারায় যা রয়েছে১. সালেহ (আ.)-এর জাতিসালিহ (আ.)-এর উটনি নিদর্শন উপেক্ষা করলে শাস্তি আসে।নবীর সতর্কবার্তা উপেক্ষা করলে ধ্বংসের পরিণতি।২. লুত (আ.)-এর জাতিলুত (আ.)-এর সতর্কবার্তা অগ্রাহ্য করলে শহর ধ্বংস হয়।অন্যায় এবং শারীরিক পাপের ফল স্পষ্ট।৩. সূলােমানের (আ.) রাজত্বসুলাইমান (আ.)-এর নেতৃত্ব ও জ্ঞান।প্রাণী ও পাখিদের সাথে আল্লাহর নিদর্শন।ন্যায় ও সততার উদাহরণ।৪. মূসা (আ.)-এর জীবনমূসা (আ.)-এর নবুওয়াত ও ফেরাউনের সঙ্গে সংঘর্ষ।আল্লাহর সাহায্যে তিনি মুক্তি পান।অবাধ্যতা শাস্তি আনে।৫. সূরা আল-কাসাস শুরুমূসা (আ.)-এর জন্ম থেকে বড় হওয়ার কাহিনি।ফেরাউনের অত্যাচার, শিশু অবস্থায় মিশরে রাখা, এবং তার পরিণতি।ধৈর্য, আস্থা ও আল্লাহর নির্দেশ মানার শিক্ষা।৬. আল্লাহর সাহায্য ও নিদর্শনমানুষকে শিক্ষা দেয় যে ধৈর্য, ন্যায় ও সত্যের পথে চললে আল্লাহ সাহায্য করেন।শিরক ও অন্যায় পরিণতি আনে।এই পারার মূল বিষয়নবীদের ধৈর্যঅবাধ্যতার পরিণতিআল্লাহর সাহায্যতাওহীদন্যায় ও সততাএই পারা শেখায়শিরক ও অন্যায় ধ্বংস ডেকে আনেধৈর্য ও সততার সাথে আল্লাহর নির্দেশ পালন করা প্রয়োজননবীদের উদাহরণ অনুসরণ করতে হবেআল্লাহ সীমাহীন সাহায্য করেনন্যায় ও সততার জীবন সুখ ও সাফল্য আনেএই পারা মানুষকে ধৈর্য, তাওহীদে দৃঢ়তা এবং ন্যায়পরায়ণ জীবনযাপনের শিক্ষা দেয়।
পারা ১৯শুরু: সূরা আল-ফুরকান ২১ নম্বর আয়াত থেকে সূরা আন-নামল ৫৫ নম্বর আয়াত পর্যন্তএই পারায় শয়তানের ফাঁদ, নবীদের দাওয়াত, আল্লাহর নিদর্শন এবং ঈমান ও নৈতিকতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে যাতে তারা মিথ্যা পথে না চলে।এই পারায় যা রয়েছে১. শয়তানের ফাঁদ ও প্রলোভনমানুষকে মিথ্যা পথে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা।আল্লাহর স্মরণ ও সতর্কতা ছাড়া প্রলোভন এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।২. নবীদের উদাহরণনূহ (আ.)-এর জাতি উপেক্ষা করলেও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।হূদ (আ.)-এর জাতি অহংকারে ধ্বংস হয়।সালিহ (আ.)-এর উটনি নিদর্শন ভাঙলে শাস্তি আসে।লুত (আ.)-এর জাতি অন্যায়ের জন্য ধ্বংস হয়।৩. সূরা আঞ্জুমানসুলাইমান (আ.)-এর নেতৃত্ব ও জ্ঞান।প্রাণী ও পাখির সাথে আল্লাহর নিদর্শন।৪. সূরা আন-নামলসুলাইমান (আ.)-এর গল্পের বিস্তারিত।বিনয়, জ্ঞান ও ন্যায়পরায়ণতার উদাহরণ।কোরআনের সততা ও সত্য প্রকাশ।৫. আল্লাহর নিদর্শনপৃথিবীর সৃষ্টির নিয়ম, প্রাণী, জল, আলো এবং মানুষের জীবন পরিচালনা।মানুষকে শিক্ষা দেয় কৃতজ্ঞ ও দায়িত্বশীল হতে।এই পারার মূল বিষয়শয়তানের ফাঁদ থেকে সতর্কতানবীদের ধৈর্য ও সতর্কবার্তাআল্লাহর নিদর্শননৈতিকতাতাওহীদএই পারা শেখায়শয়তান প্রতিনিয়ত প্রলুব্ধ করেধৈর্য ছাড়া পরীক্ষা উত্তীর্ণ হওয়া সম্ভব নয়নবীদের উদাহরণ অনুসরণ করা উচিতআল্লাহর নিদর্শন লক্ষ্য করলে কৃতজ্ঞতা জন্মেতাওহীদই সকল দাওয়াতের মূল ভিত্তিএই পারা মানুষকে সতর্ক, ধৈর্যশীল এবং আল্লাহর নিদর্শনের প্রতি সচেতন হতে শেখায়।
পারা ১৮শুরু: সূরা আল-মুমিনূন ১ নম্বর আয়াত থেকে সূরা আল-ফুরকান ২০ নম্বর আয়াত পর্যন্তএই পারায় সফল মুমিনদের গুণাবলি, বিভিন্ন নবীর কাহিনি, কিয়ামতের দৃশ্য এবং কোরআনের সত্যতা তুলে ধরা হয়েছে। ঈমান, চরিত্র ও জবাবদিহির শিক্ষা এখানে স্পষ্ট।এই পারায় যা রয়েছে১. সফল মুমিনদের বৈশিষ্ট্যনামাজে খুশুঅর্থহীন কাজ থেকে দূরে থাকাযাকাত আদায়পবিত্র জীবনযাপনঅমানত ও ওয়াদা রক্ষাএই গুণগুলোর অধিকারীরাই জান্নাতের উত্তরাধিকারী।২. মানব সৃষ্টির ধাপমানুষকে মাটির উপাদান থেকে সৃষ্টি এবং ধাপে ধাপে গঠনের বর্ণনা।আল্লাহর শক্তি ও পরিকল্পনা স্পষ্ট করা হয়েছে।৩. নবীদের কাহিনিনূহ (আ.)-এর দাওয়াত ও প্লাবন।মূসা (আ.) ও ফেরাউনের ঘটনা।ঈসা (আ.) ও তাঁর মাতা মারইয়াম (আ.)-এর উল্লেখ।সব নবীর দাওয়াত এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে।৪. কিয়ামতের দৃশ্যকবর থেকে উঠা, হিসাব, অস্বীকারকারীদের অনুশোচনা।জীবন একবারই, ফিরে আসার সুযোগ নেই।৫. সূরা আন-নূরপবিত্রতা ও সামাজিক শুদ্ধতার আইন এসেছে।ব্যভিচারের শাস্তি উল্লেখ।মিথ্যা অপবাদ থেকে সতর্কতা।চোখ ও চরিত্র হেফাজতের নির্দেশ।৬. ঘরে প্রবেশের আদবঅন্যের ঘরে ঢোকার আগে অনুমতি নেওয়ার নির্দেশ।৭. সূরা আল-ফুরকানের শুরুকোরআন সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী কিতাব হিসেবে ঘোষণা।রাসুল মানুষই ছিলেন, খাবার খেতেন ও বাজারে চলাফেরা করতেন—এ নিয়ে অবিশ্বাসীদের আপত্তির জবাব দেওয়া হয়েছে।এই পারার মূল বিষয়সফল মুমিনের গুণপবিত্রতাতাওহীদজবাবদিহিসামাজিক শুদ্ধতাএই পারা শেখায়নামাজ ও চরিত্র একসাথে চলতে হবেঅপবাদ বড় গুনাহজীবন পরীক্ষার জায়গানবীদের দাওয়াত একইকোরআন সত্যের মানদণ্ডএই পারা ব্যক্তি ও সমাজকে শুদ্ধ, দায়িত্বশীল ও ঈমানভিত্তিক জীবন গড়ার আহ্বান জানায়।
পারা ১৭শুরু: সূরা আল-আম্বিয়া ১ নম্বর আয়াত থেকে সূরা আল-হাজ্জ ৭৮ নম্বর আয়াত পর্যন্তএই পারায় কিয়ামতের সতর্কবার্তা, বহু নবীর দাওয়াত, তাওহীদের প্রমাণ এবং ইবাদত ও সংগ্রামের নির্দেশনা এসেছে। মানুষকে জবাবদিহির জন্য প্রস্তুত হতে বলা হয়েছে।এই পারায় যা রয়েছে১. কিয়ামতের সতর্কবার্তামানুষ গাফেল থাকে, কিন্তু হিসাবের দিন কাছে।প্রত্যেকে নিজের কাজের ফল পাবে।২. নবীদের ধারাবাহিক দাওয়াতইবরাহিম (আ.) মূর্তি ভেঙে তাওহীদের ঘোষণা দেন।লুত (আ.) অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।নূহ (আ.)-এর ধৈর্য উল্লেখ করা হয়েছে।আইয়ুব (আ.)-এর কষ্ট ও ধৈর্যের উদাহরণ এসেছে।ইউনুস (আ.)-এর দোয়া ও মুক্তির ঘটনা।যাকারিয়া (আ.)-এর দোয়া কবুলের কথা বলা হয়েছে।৩. সব নবীর দাওয়াত একসবাই এক আল্লাহর ইবাদতের আহ্বান দিয়েছেন।শিরক বড় অন্যায়।৪. সূরা আল-হাজ্জহজের গুরুত্ব এবং কাবার মর্যাদা তুলে ধরা হয়েছে।কাবা মানুষের জন্য স্থাপিত ঘর।৫. কোরবানির উদ্দেশ্যকোরবানির রক্ত বা মাংস নয়, তাকওয়া আল্লাহর কাছে পৌঁছে।৬. জিহাদের অনুমতিঅত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।মসজিদ ও ইবাদতের স্থান রক্ষার কথা বলা হয়েছে।৭. উম্মাহর দায়িত্বমুসলিমদের উত্তম উম্মাহ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে।নামাজ কায়েম, যাকাত আদায়, সৎকাজে আহ্বান।এই পারার মূল বিষয়কিয়ামতের প্রস্তুতিতাওহীদনবীদের ধৈর্যহজ ও কোরবানিসংগ্রাম ও দায়িত্বএই পারা শেখায়জীবন ক্ষণস্থায়ী, হিসাব স্থায়ীধৈর্য ধরলে আল্লাহ সাহায্য করেনসব নবীর দাওয়াত একইবাদতের আসল লক্ষ্য তাকওয়াঅত্যাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো দায়িত্বএই পারা মানুষকে জবাবদিহির সচেতনতা, তাওহীদে দৃঢ়তা এবং দায়িত্বশীল জীবনযাপনের আহ্বান জানায়।
পারা ১৬শুরু: সূরা আল-কাহফ ৭৫ নম্বর আয়াত থেকে সূরা ত্বা-হা ১৩৫ নম্বর আয়াত পর্যন্তএই পারায় মূসা (আ.) ও খিজিরের কাহিনির সমাপ্তি, যুলকারনাইনের ঘটনা এবং সূরা মারইয়াম ও ত্বা-হার গুরুত্বপূর্ণ দাওয়াত রয়েছে। আল্লাহর জ্ঞান, রহমত ও তাওহীদের বার্তা এখানে স্পষ্ট।এই পারায় যা রয়েছে১. মূসা (আ.) ও খিজিরমূসা (আ.) ধৈর্য ধরে খিজিরের কাজের ব্যাখ্যা শোনেন।নৌকা ক্ষতি করা, শিশুকে হত্যা, দেয়াল ঠিক করা—সব ঘটনার পেছনে আল্লাহর হিকমাহ ছিল।শিক্ষা: মানুষ সীমিত জানে, আল্লাহ সব জানেন।২. যুলকারনাইনযুলকারনাইন ন্যায়পরায়ণ শাসক হিসেবে পরিচিত।তিনি ইয়াজুজ-মাজুজের ক্ষতি থেকে মানুষকে রক্ষা করতে প্রাচীর নির্মাণ করেন।ক্ষমতা পেলে ন্যায় প্রতিষ্ঠার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।৩. সূরা মারইয়ামযাকারিয়া (আ.)-এর দোয়া ও সন্তান লাভের ঘটনা।মারইয়াম (আ.)-এর পবিত্রতা এবংঈসা (আ.)-এর জন্মের অলৌকিক ঘটনা।তাওহীদ ও আল্লাহর শক্তি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।৪. অন্যান্য নবীদের উল্লেখইবরাহিম, মূসা, ইসমাইলসহ কয়েকজন নবীর দাওয়াত সংক্ষেপে এসেছে।ইবরাহিম (আ.) তাঁর পিতাকে তাওহীদের দিকে ডাকেন।৫. সূরা ত্বা-হামূসা (আ.)-এর নবুওয়াত প্রাপ্তি।তূর পাহাড়ে আল্লাহর সাথে কথা বলা।ফেরাউনের কাছে দাওয়াত নিয়ে যাওয়া।জাদুকরদের পরাজয় ও ঈমান গ্রহণ।এই পারার মূল বিষয়আল্লাহর হিকমাহন্যায়পরায়ণ নেতৃত্বঅলৌকিক শক্তিতাওহীদধৈর্যএই পারা শেখায়মানুষের জ্ঞান সীমিতক্ষমতা পেলে ন্যায় করতে হবেআল্লাহ চাইলে অসম্ভব সম্ভব হয়তাওহীদই সকল নবীর মূল দাওয়াতধৈর্য ছাড়া সফলতা নেইএই পারা মানুষকে আল্লাহর জ্ঞানের সামনে বিনয়ী হতে এবং সত্য পথে অটল থাকতে শিক্ষা দেয়।
পারা ১৫শুরু: সূরা আল-ইসরা ১ নম্বর আয়াত থেকে সূরা আল-কাহফ ৭৪ নম্বর আয়াত পর্যন্তএই পারায় মিরাজের ঘটনা, নৈতিক নির্দেশনা, কোরআনের মর্যাদা এবং সূরা কাহফের গুরুত্বপূর্ণ কাহিনি শুরু হয়েছে। ঈমান, ধৈর্য এবং আল্লাহর জ্ঞানের ব্যাপ্তি এখানে স্পষ্ট।এই পারায় যা রয়েছে১. মিরাজের ঘটনামুহাম্মদ (সা.)-এর রাতের সফরের কথা বলা হয়েছে।মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত ভ্রমণ আল্লাহর নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ।২. বনি ইসরাইলের সতর্কবার্তাবনি ইসরাইল-এর অবাধ্যতার ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।অন্যায় করলে শাস্তি, সংশোধন করলে সুযোগ।৩. নৈতিক জীবনব্যবস্থাপিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারঅপচয় থেকে বিরত থাকাঅন্যায় হত্যা নিষিদ্ধঅহংকার না করাওয়াদা পূরণ করা৪. কোরআনের মর্যাদাকোরআন হেদায়েত ও রহমত।মানুষের অন্তরের রোগের চিকিৎসা।৫. সূরা আল-কাহফের শুরুআল্লাহর প্রশংসা এবং কোরআনের সত্যতা ঘোষণা।৬. গুহাবাসীদের ঘটনাঈমান রক্ষায় কয়েকজন যুবক গুহায় আশ্রয় নেয়।আল্লাহ তাদের দীর্ঘ সময় ঘুম পাড়িয়ে রাখেন।ধৈর্য ও ঈমানের শক্তির শিক্ষা।৭. মূসা (আ.) ও খিজিরের কাহিনি শুরুমূসা (আ.) জ্ঞান অর্জনের জন্য সফর করেন।খিজিরের সাথে কিছু রহস্যময় ঘটনা শুরু হয়, যার মাধ্যমে আল্লাহর জ্ঞানের গভীরতা বোঝানো হয়।এই পারার মূল বিষয়মিরাজ ও আল্লাহর নিদর্শননৈতিকতাকোরআনের হেদায়েতঈমান রক্ষাধৈর্যআল্লাহর সর্বজ্ঞতাএই পারা শেখায়নৈতিক জীবন ছাড়া ঈমান পূর্ণ হয় নাকোরআন জীবনের দিশাঈমানের জন্য ত্যাগ করতে হয়মানুষ সব জ্ঞান জানে নাআল্লাহর পরিকল্পনা মানুষের বোঝার বাইরেএই পারা মানুষকে আত্মশুদ্ধি, ধৈর্য এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ ভরসার দিকে আহ্বান জানায়।
পারা ১৪শুরু: সূরা আল-হিজর ১ নম্বর আয়াত থেকে সূরা আন-নাহল ১২৮ নম্বর আয়াত পর্যন্তএই পারায় কোরআনের সত্যতা, শয়তানের শত্রুতা, আল্লাহর নেয়ামত এবং কৃতজ্ঞতার শিক্ষা এসেছে। মানুষকে তাওহীদে দৃঢ় থাকার আহ্বান দেওয়া হয়েছে।এই পারায় যা রয়েছে১. সূরা আল-হিজরকোরআন আল্লাহর সংরক্ষিত কিতাব বলে ঘোষণা করা হয়েছে।মানুষ উপহাস করলেও আল্লাহ তাঁর দ্বীন রক্ষা করেন।২. আদম (আ.) ও ইবলিসআদম (আ.)-এর সৃষ্টি এবং ইবলিসের অহংকারের ঘটনা এসেছে।ইবলিস মানুষকে পথভ্রষ্ট করার অঙ্গীকার করে।আল্লাহ সতর্ক করেছেন, শয়তান প্রকাশ্য শত্রু।৩. লুত (আ.)-এর জাতিলুত (আ.)-এর জাতির শাস্তির কথা বলা হয়েছে।অন্যায় আচরণের পরিণতি স্পষ্ট করা হয়েছে।৪. সূরা আন-নাহলআল্লাহর অসংখ্য নেয়ামতের বর্ণনা এসেছে।আকাশ, জমিন, বৃষ্টি, পশু, ফল, সমুদ্র সবই মানুষের উপকারে।মানুষকে কৃতজ্ঞ হওয়ার আহ্বান।৫. তাওহীদের দাওয়াতপ্রত্যেক জাতির কাছে নবী পাঠানো হয়েছে এক আল্লাহর ইবাদতের জন্য।শিরক বড় জুলুম হিসেবে উল্লেখ।৬. হিজরতের উৎসাহযারা আল্লাহর পথে ত্যাগ করে, তাদের জন্য উত্তম প্রতিদান আছে।৭. ন্যায় ও উত্তম আচরণের নির্দেশআল্লাহ ন্যায়, সৎকাজ ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার আদেশ দেন।অশ্লীলতা, অন্যায় ও সীমালঙ্ঘন নিষিদ্ধ।এই পারার মূল বিষয়কোরআনের সংরক্ষণশয়তানের শত্রুতাআল্লাহর নেয়ামতকৃতজ্ঞতাতাওহীদনৈতিকতাএই পারা শেখায়আল্লাহ তাঁর দ্বীন রক্ষা করেনঅহংকার ধ্বংসের কারণনেওয়ামতের কদর করতে হবেশয়তান থেকে সতর্ক থাকতে হবেন্যায় ও সৎকাজ সমাজকে শক্ত করেএই পারা মানুষকে কৃতজ্ঞ, সচেতন ও তাওহীদে দৃঢ় থাকার শিক্ষা দেয়।
পারা ১৩শুরু: সূরা ইউসুফ ৫৩ নম্বর আয়াত থেকে সূরা ইবরাহিম ৫২ নম্বর আয়াত পর্যন্তএই পারায় সূরা ইউসুফের কাহিনির সমাপ্তি এবং সূরা রা‘দ ও সূরা ইবরাহিমের গুরুত্বপূর্ণ দাওয়াতমূলক বার্তা রয়েছে। ধৈর্য, ক্ষমা, তাওহীদ এবং আল্লাহর উপর ভরসার শিক্ষা এখানে স্পষ্ট।এই পারায় যা রয়েছে১. ইউসুফ (আ.)-এর কাহিনির সমাপ্তিইউসুফ (আ.) কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পান।দুর্ভিক্ষের সময়ে জ্ঞান ও সততার মাধ্যমে মিসরকে রক্ষা করেন।ভাইদের ক্ষমা করেন।পিতা ইয়াকুব (আ.)-এর সাথে পুনর্মিলন ঘটে।স্বপ্নের পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়।২. সূরা রা‘দআল্লাহর শক্তি ও সৃষ্টির নিদর্শন তুলে ধরা হয়েছে।বৃষ্টি, বজ্র, বিদ্যুৎ, আকাশ ও জমিনের ব্যবস্থাপনা উল্লেখ আছে।হৃদয়ের প্রশান্তি আল্লাহর স্মরণে আসে।৩. সত্য ও মিথ্যার তুলনাসত্যকে পরিষ্কার পানির সাথে তুলনা করা হয়েছে।মিথ্যা ক্ষণস্থায়ী, সত্য স্থায়ী।৪. সূরা ইবরাহিমইবরাহিম (আ.)-এর দাওয়াত ও দোয়া উল্লেখ আছে।কাবার পাশে তাঁর দোয়া, সন্তানদের জন্য দোয়া, নামাজ প্রতিষ্ঠার আহ্বান।নবীদের দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করলে জাতির পরিণতি কেমন হয় তা বলা হয়েছে।৫. কিয়ামতের দৃশ্যশয়তান মানুষের দায় অস্বীকার করবে।প্রত্যেকে নিজের কাজের ফল ভোগ করবে।এই পারার মূল বিষয়ধৈর্য ও ক্ষমাআল্লাহর পরিকল্পনাতাওহীদদোয়ার শক্তিসত্যের স্থায়িত্বএই পারা শেখায়কষ্টের পর সহজি আসেক্ষমা মর্যাদা বাড়ায়আল্লাহর স্মরণে হৃদয় শান্ত হয়সত্য শেষ পর্যন্ত টিকে থাকেদোয়া মানুষের শক্তিএই পারা দেখায়, আল্লাহর পরিকল্পনা মানুষের পরিকল্পনার চেয়ে উত্তম। ধৈর্য, সততা ও তাওহীদই সফলতার পথ।
পারা ১২শুরু: সূরা হূদ ৬ নম্বর আয়াত থেকে সূরা ইউসুফ ৫২ নম্বর আয়াত পর্যন্তএই পারায় বিভিন্ন নবীর দাওয়াত, ধৈর্য, শাস্তি ও মুক্তির ঘটনা এবং সূরা ইউসুফের হৃদয়স্পর্শী কাহিনি শুরু হয়েছে। কঠিন পরিস্থিতিতেও আল্লাহর উপর ভরসা রাখার শিক্ষা এখানে স্পষ্ট।এই পারায় যা রয়েছে১. নূহ (আ.)-এর দাওয়াতনূহ (আ.) দীর্ঘ সময় তাঁর জাতিকে আহ্বান করেন।তারা অস্বীকার করলে মহাপ্লাবন আসে।ধৈর্য ও অবিচলতার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।২. হূদ (আ.) ও আদ জাতিহূদ (আ.) অহংকারী আদ জাতিকে সতর্ক করেন।তারা শক্তির গর্ব করে, পরে ধ্বংস হয়।৩. সালিহ (আ.) ও সামুদসালিহ (আ.)-এর কাছে উটনী ছিল নিদর্শন।তারা তা হত্যা করলে শাস্তি আসে।৪. লুত (আ.)-এর জাতিলুত (আ.) অশ্লীলতার বিরুদ্ধে সতর্ক করেন।অবাধ্যতার কারণে তাদের ওপর শাস্তি নেমে আসে।৫. শু‘আইব (আ.)শু‘আইব (আ.) ওজন ও মাপে ন্যায় বজায় রাখতে বলেন।অন্যায় ব্যবসার কারণে জাতি ধ্বংস হয়।৬. মূসা (আ.) ও ফেরাউনমূসা (আ.)-এর দাওয়াত এবং ফেরাউনের অহংকারের কথা এসেছে।৭. সূরা ইউসুফের শুরুইউসুফ (আ.)-এর স্বপ্ন দিয়ে কাহিনি শুরু।ভাইদের হিংসা, কূপে নিক্ষেপ, মিসরে বিক্রি হওয়ার ঘটনা।সত্যবাদিতা ও পবিত্র চরিত্রের শিক্ষা।এই পারার মূল বিষয়ধৈর্যআল্লাহর উপর ভরসাঅহংকারের পরিণতিনৈতিকতাপরীক্ষার মাধ্যমে উন্নতিএই পারা শেখায়সত্যের পথে কষ্ট আসবেঅহংকার ধ্বংস ডেকে আনেনৈতিকতা রক্ষা করলে আল্লাহ সাহায্য করেনধৈর্য শেষে সফলতা আসেপরীক্ষা ঈমানকে শক্ত করেএই পারা ইতিহাসের মাধ্যমে দেখায়, আল্লাহর পরিকল্পনা সর্বোত্তম এবং ধৈর্যশীলরাই সফল হয়।
পারা ১১শুরু: সূরা আত-তাওবা ৯৩ নম্বর আয়াত থেকে সূরা হূদ ৫ নম্বর আয়াত পর্যন্তএই পারায় মুনাফিকদের চিহ্ন, সত্য তওবা, নবীদের দাওয়াত এবং আল্লাহর শক্তি ও জ্ঞানের বর্ণনা এসেছে। মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে যেন বাহ্যিক নয়, আন্তরিক ঈমান ধরে রাখে।এই পারায় যা রয়েছে১. মুনাফিকদের আসল চেহারাতারা অজুহাত দিয়ে দায়িত্ব এড়িয়ে যায়।সম্পদ ও আরামকে অগ্রাধিকার দেয়।আল্লাহ তাদের অন্তরের অবস্থা জানেন।২. তওবার গুরুত্বযারা ভুল স্বীকার করে ফিরে আসে, আল্লাহ তাদের ক্ষমা করেন।সত্য তওবা মানে কাজের মাধ্যমে পরিবর্তন।৩. তিন সাহাবির ঘটনাযারা তাবুক যুদ্ধে অংশ নেয়নি, পরে অনুতপ্ত হয়।আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করেন।সততা ও ধৈর্যের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।৪. সূরা ইউনুসইউনুস (আ.)-এর জাতির ঘটনা উল্লেখ আছে।তারা শাস্তির আগে তওবা করে, তাই রক্ষা পায়।কোরআনের সত্যতা ও আল্লাহর একত্ব তুলে ধরা হয়েছে।৫. সূরা হূদের শুরুহূদ (আ.)-এর দাওয়াতের প্রেক্ষাপট শুরু হয়েছে।আল্লাহ সব গোপন বিষয় জানেন।মানুষকে শিরক থেকে ফিরে আসার আহ্বান দেওয়া হয়েছে।এই পারার মূল বিষয়মুনাফিকতা থেকে সতর্কতাসত্য তওবাআল্লাহর সর্বজ্ঞতানবীদের দাওয়াতধৈর্য ও সততাএই পারা শেখায়অজুহাত দিয়ে দায়িত্ব এড়ানো ঈমানের লক্ষণ নয়ভুল করলে ফিরে আসাই সফলতাআল্লাহ সব জানেনশাস্তির আগে তওবার সুযোগ থাকেসত্যে অটল থাকতে হবেএই পারা মানুষকে ভেতর থেকে সংশোধন হওয়ার আহ্বান জানায় এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসার পথ দেখায়।





